পাওয়ার ফ্যাক্টর ইমপ্রুভ কেন করা হয়?
মুলত সার্কিটের রেজিস্টিভ উপাদান প্রকৃত পাওয়ার ব্যয়ের জন্য দায়ী। আর রিয়্যাক্টিভ উপাদান অনাকাঙ্ক্ষিত রিয়্যাক্টিভ কারেন্ট তৈরির জন্য দায়ী যা প্রকৃতপক্ষে কোন পাওয়ার খরচ করে না। Cose-র মান হ্রাস পেলে সার্কিটে এই অযাচিত কারেন্টের মান বৃদ্ধি পায়। তাই কারেন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পাওয়ার ফ্যাক্টর অর্থাৎ Cose ইমপ্রুভ করা দরকার।
কারেন্ট বাড়লে সার্কিটে রেজিস্টিভ লস যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি সার্কিটে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরন যেমন- ক্যাবল, সার্কিট ব্রেকার, ফিউজ ইত্যাদি বর্ধিত কারেন্টের কথা চিন্তা করে নির্বাচন করতে হয়। ফলে ব্যবহারকারীকে অপেক্ষাকৃত বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
এতো শুধু স্থাপনা (ইন্সটলেশন) ব্যয়, যা গ্রাহকের এককালীন খরচ। এছাড়া প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে পাওয়ার ফ্যাক্টর ইমপ্রুভমেন্ট পেনাল্টি হিসেবে গ্রাহকে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হয়। অবশ্য এ পেনাল্টি শুধু শিল্প ও কলকারখানার গ্রাহকদের জন্য প্রযোয্য, আবাসিক গ্রাহকদের এ অতিরিক্ত বিল দিতে হয় না।
অপরদিকে উল্লেখিত অযাচিত রিয়্যাক্টিভ উপাদান কারেন্ট যে রেজিস্টিভ লস বৃদ্ধি করে তা মূলত তাপশক্তি হিসেবে প্রকাশ পায়, যা সিস্টেমের স্থিরতা নষ্ট করে।
পাওয়ার ফ্যাক্টর এর মান কত হওয়া উচিৎ
এক্ষেত্রে আমরা জানি যে, ইন্ডাক্টিভ রিয়্যাকট্যান্স ভোল্টেজের চেয়ে ল্যাগিং কারেন্ট এবং ক্যাপাসিটিভ রিয়্যাকট্যান্স লিডিং কারেন্ট তৈরি করে। বাসা বাড়ি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিভিন্ন ব্যবহারের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইন্ডাক্টিভ লোডের পরিমাণই বেশি। এর ফলে পাওয়ার ফ্যাক্টরের যে ক্ষতি সাধিত হয় তা হ্রাস করতে হলে লোডের আড়াআড়িতে ক্যাপাসিটর ব্যবহার করে পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নতি করতে হয় (এছাড়া সিনক্রোনাস মোটর ব্যবহার করেও পাওয়ার ফ্যাক্টর ইমপ্রুভ করা যায়)।
পাওয়ার ফ্যাক্টরের মান উন্নতি করে যদি ১ করা সম্ভব হয়, তাহলে সিস্টেম সবচেয়ে বেশি স্থিতাবস্তা প্রাপ্ত হয়। তবে ব্যবহারিক সার্কিটের ক্ষেত্রে তা করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এক্ষেত্রে পাওয়ার ফ্যাক্টরের মান 0.95-0.98 এর মধ্যে রাখতে পারলে ভালো এবং তা সিস্টেমের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী হয়।
